:

চট্টগ্রামে ৮ বছের ৪২২শিশু ধর্ষণ এবং পাশবিকতার শিকার--মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন

top-news

চট্টগ্রামে গত ৮ বছরে ১২ বছরের কম বয়সী ৪২২শিশু ধর্ষণসহ পাশবিকতার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন।

তিনি জানিয়েছেন, যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এটি শুধু সেই সংখ্যা। হাসপাতালে আসেননি এবং সংখ্যা আরো কয়েক হাজার হবে।

সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল  কলেজ হাসপাতালে ধর্ষন ও পাশবিকতার শিকার হয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের দেখতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

মেয়র জানান, যেসব শিশুরা পাশবিকতার শিকার হয়েছেন তাদের অধিকাংশ হচ্ছে নিম্ম আয়ের পরিবারের সদস্য কিংবা গার্মেন্টস কর্মি। গর্মেন্টস কর্মিরা তাদের বাচ্চাদের বাসায় রেখে যখন কাজে যায় তখন শিশুরা পাশবিকতার শিকার হচ্ছে।

মেয়র শিশুদের জন্য চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় ডে-কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা কথা জানিয়ে বলেন, গার্মেন্টস মালিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে, তারা তাদের কর্মিদের পরিবার, তাদের শিশুদের সুরক্ষায় কারখানা এলাকায় ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তুলতে হবে।

মেয়র শিশুদের উপর পাশবিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, গণসচেতনতা পাশাপাশি শিশু নির্যাতন বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ, দৃষ্টান্তমুলক শাস্তিসহ দ্রুততার সাথে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। তিনি সবাইকে এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ারও আহবান জানান।

এসময় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে চট্টগ্রামে পৃথক তিনটি ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। নগরীর বায়োজিদ, আগ্রাবাদ ও খুলশী আমবাগান এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, খুলশীর আমবাগানে ৭ ও ১১ বছরের দুই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আব্দুল বাতেন নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে তাকে আটক করা হয়।

ভুক্তভোগীদের পরিবার জানায়, ওইদিন মাদ্রাসা ছুটি দেয়ার পরও ২ বোন বাসায় ফিরতে দেরি করায় মা তাদের খোঁজ নিতে মাদ্রাসায় যান। আগেও একাধিক বার তাদের ফিরতে দেরি হওয়ায় পরিবারের সন্দেহ হয়। এসময় ওই দুই মেয়ে তাদের স্পর্শ করার বিবরণ দিলে স্থানীয়রা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

পুলিশ জানায় শুক্রবার বিকেলে আগ্রাবাদ হাজি পাড়া এলাকায় একটি টিনের বেড়ার ভেতর দুই শিশুকে নিয়ে যায় মো: এহসান নামের এক ব্যক্তি। এসময় ওই দুই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টাকালে স্বজন ও স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরে ফেলে। ওই ঘটনায় শিশুটির মা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ডবলমুরিং থানায় মামলা করছে।

এদিকে নগরীর বায়োজিদ বোস্তামী এলাকায় ৫ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগে মো: হাছান নামে ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, চকলেট দেয়ার নাম করে শিশুটিকে ধর্ষনের চেষ্টা করা হয়। শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার স্টাপ ক্রাসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার থানায় মামলা হয়েছে।

এদিকে বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার মনির হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরের বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠসংলগ্ন একটি গোডাউন কক্ষ থেকে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে নগরের বাকলিয়া এলাকার মিয়াখান নগরে বসবাস করছিলেন।

শুক্রবার (২২ মে) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

অভিযুক্ত মনিরকে থানায় নেওয়ার প্রস্তুতির সময় একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি পুলিশের কাজে বাধা দেন। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

এতে কয়েকজন সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্য আহত হন। পাশাপাশি পুলিশবাহী কয়েকটি পিকআপ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

পুলিশ পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ  এবং সড়কও অবরুদ্ধ ছিল। আহত পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *